চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার-23

চিকুনগুনিয়া কি?

চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা অ্যাডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ঠান্ডা লাগা, পেশি ব্যথা, এবং চোখের পিছনে ব্যথা। কিছু ক্ষেত্রে, রোগীরা ত্বকে ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে। এটি সাধারণত গুরুতর হয় না, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন রক্তক্ষরণ, জয়েন্টের ব্যথা, এবং এমনকি মৃত্যু।এই রোগ ১ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ২ থেকে ৪ দিনের মধ্যে হঠাৎ করে জ্বর শুরু হয় এবং অস্বস্তি বোধ হতে থাকে।

এডিস মশারা বেশিরভাগ দিনের বেলাতেই কামড়ায়।এরা একই সাথে ২ থেকে ৪ জন মানুষকে কামড়াতে বেশি পছন্দ করে।এই রোগের কারণে মৃত্যুর হারের পরিমাণ খুবই কম। প্রতি ১০ হাজারে ১ জন বা তার চেয়েও কম, তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই রোগ গুরুতর হতে পারে।এখনো পর্যন্ত এই রোগের জন্য কোন নির্দিষ্ট ওষুধ তৈরি হয়নি। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই এই রোগের সনাক্তকরণ করা যায়।আজকের আর্টিকেলে আমরা চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব।

চিকুনগুনিয়া প্রকার ও উৎপত্তি

এই ভাইরাস সাধারণত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। সেগুলি হল :

  • চিকুনগুনিয়া সিন্ড্রোম (CHIKV): এই প্রকার ভাইরাসটি খুব সাধারণ। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হালকা ধরনের লক্ষণ সৃষ্টি করা যায়। যেমন : হালকা জ্বর ব্যথা মাথার যন্ত্রণা ইত্যাদি এবং কয়েক দিনের মধ্যে এটি শরীর থেকে চলে যায়।
  • হেমোরেজিক চিকুনগুনিয়া (HCD): এই প্রকার ভাইরাসটি খুবই বিপদজনক। এই ভাইরাস আক্রান্তের ফলে, জ্বর, শরীরের যন্ত্রণা, গাঁটের ব্যাথা এবং রক্তপাতের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক চিকিৎসা না হওয়ার কারণে এতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এই ভাইরাস প্রথম ১৯৫২ সালে তাঞ্জানিয়ায় পাওয়া গিয়েছিল। এরপর থেকে এটি বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল এখনও অজানা, তবে এটি সম্ভবত আফ্রিকার গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে উৎপন্ন হয়েছিল।১৯৯০-এর দশকে, চিকুনগুনিয়া ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে, এটি প্রায় ১২৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার করার উপায়

চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাস জাতীয় রোগ তবে এটি গুরুতর রোগ নয়। এই রোগের লক্ষণ গুলি বেশ অস্বস্তিকর আর এই ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে সাধারণ লক্ষণ গুলি দেখা দেয় এবং এটি কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়, সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে।এই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে চিকিৎসাকরা বলেন, এই রোগের লক্ষণ গুলি অনেকগুলি ভাইরাস ঘটিত রোগের সঙ্গে মিল আছে, তবে হাড়ের জোর পয়েন্টের তীব্র ব্যথা এই রোগের একমাত্র চেনার সঠিক উপায়।এছাড়াও যে সকল উপসর্গ দেখা যায় সেগুলি হল :

  • জ্বর
  • মাথাব্যথা
  • চোখের পিছনে ব্যথা
  • পেশী ব্যথা
  • জয়েন্টে ব্যথা
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • ত্বকে লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি

চিকিৎসার জন্য সাধারণত ওষুধের প্রয়োজন হয় না তবে জ্বর এবং ব্যথা ঠিক করার জন্য অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ খাওয়া বা নেওয়া যেতে পারে।তবে, খেয়াল রাখবেন কোন কিছু ওষুধ খাবার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

চিকুনগুনিয়ার প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে:

  • মশার কামড় থেকে বাঁচুন।মশার কামড় থেকে বাঁচতে দীর্ঘ হাতা এবং দীর্ঘ পায়ের মোজা পরুন, দরকারে জানালা দরজায় নেট লাগান। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন এবং শরীরে মশা প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করুন যাতে মশা আপনাকে কামড়াতে না পারে। এই নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গুলির জন্য আপনি মশার কামড় থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন।
  • মশার উৎস ধ্বংস করুন।বাড়ির আশেপাশে ফেলে রাখা মাটির ছোট পাত্র, ফুল গাছের টব, বালতি, ডাম, ডাবের খোলা, ইত্যাদি জায়গায় জল জমতে দেবেন না কারণ এই সব জমা জলে এডিস মশা প্রজনন করতে সক্ষম হয়। এইসব জায়গায় যাতে জল জমতে না পারে সেই ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন। বাসস্থানের আশপাশ পরিষ্কার রাখুন এবং সরকারের মশা মারার প্রকল্প যোগ দিন।
অ্যাডিস মশা

চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি

    চিকনগুনিয়া রোগের রোগীকে সুস্থ করার জন্য দুটি পদ্ধতি কেই অবলম্বন করতে হবে :

    • ডাক্তারের সাথে পরামর্শ এবং ওষুধ সেবন ও ব্যবহার: এই রোগের উপসর্গ দেখা গেলে শীঘ্রই ডাক্তারি পরামর্শ নিন এবং পরামর্শ অনুযায়ী, জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল, আইব্রোপোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেন নিতে পারেন। চোখের পিছনের ব্যাথা জন্য আই ড্রপ বা আই মলম দিতে পারেন। বমি বমি ভাব বা বমির জন্য ওমিপ্রাজল, রেবিপ্রাজল ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।
    • অন্যান্য ব্যবস্থাপনা চিকিৎসা: ওষুধ সেবনের সাথে অন্যান্য ব্যবস্থাপনাগুলির দিকেও জোড় দিতে হবে। জ্বর বা ব্যাথা থেকে আরোগ্য লাভের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রামের দরকার। বমি ভাব কাটাতে প্রচুর পরিমাণে জল ফলের রস এবং অন্যান্য তরল জাতীয় জিনিস পান করুন। শরীরের দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য হালকা খাবার গ্রহণ করুন।

    এই রোগ কিভাবে ছড়ায়

    এটি একটি ভাইরাস জ্বর যা আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়ায়। এডিস মশার দুইটি প্রজাতি, এডিস ইজিপ্টি ও এডিস এলবোপিকটাস দ্বারা এই ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে।মূলত,এই মশারা দিনের আলোতে কাঁমড় দিয়ে থাকে।মশাগুলোর শরীরের ও পায়ের সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ দেখে সহজেই চেনা যায়।

    এই ভাইরাস আক্রান্ত মশার লালাগ্রন্থিতে থাকে। মশা কামড়ানোর সময় এই লালাগ্রন্থি থেকে ভাইরাস রক্তের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ভাইরাসটি শরীরের হাড়ের সংযোগ স্থানে আক্রমণ করে,এর ফলে রোগীর হাড়ের সংযোগস্থানে তীব্র ব্যথা হয়।

    চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ

    সাধারিত প্রশ্নগুলি

    1. চিকুনগুনিয়া কি?
      • চিকুনগুনিয়া হলো একটি ভাইরাল সংক্রমণ রোগ যা এডেস মশা দ্বারা ছড়ায়। এটি জনসমানে জ্বর, মাংশপেশী ব্যথা, এবং চর্মরে লাল চিহ্ন সাধারিত হতে পারে।
    2. এটি কীভাবে ছড়ায়?
      • এডেস মশা এই ভাইরাস ছড়ায়, সাধারিতভাবে এই মশা মানুষের রক্তে প্রবেশ করে এবং চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলি উত্পন্ন করে।
    3. এই রোগের প্রধান লক্ষণ কি?
      • এই রোগের মধ্যে জ্বর, মাংশপেশী ব্যথা, এবং চর্মরে লাল চিহ্ন সাধারিত লক্ষণ।
    4. এটি কোথায় প্রসারিত হয়েছে?
      • এটি প্রধানভাবে গরম এবং উষ্ণ অঞ্চলে প্রসারিত হয়, তবে এখন এটি বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গিয়েছে।
    5. এই রোগের প্রতি কেমন প্রতিরোধ সংক্রান্ত পরামর্শ আছে?
      • মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া, প্রস্তুতি নিতে এবং ভাইরাসের প্রতি সচেতন থাকা মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারে।
    6. এটি কিভাবে চিকিৎসা হয়?
      • এটি রোগের চিকিৎসার জন্য প্রশ্নবোধক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাতে রোগীদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়তা মেটানো হয়।
    7. এই রোগ কোথায় প্রধানভাবে দেখা যায়?
      • এটি রোগ প্রায়ই প্রথমে অস্তিত্ব পায়নি, তবে এখন এটি বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গিয়েছে, সবুজ এবং অস্তিত্ব করানো হয়।
    8. এই রোগ কি মাধ্যমে বিচার হয়?
      • এটি মশার মাধ্যমে ছড়ায়, যা মানুষের রক্তে প্রবেশ করে এবং এর ফলে রোগের লক্ষণগুলি উত্পন্ন হয়।
    9. চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতি কেমন সচেতনতা থাকতে পারে?
      • চিকুনগুনিয়া রোগের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে, মশা কামড় এবং চিকুনগুনিয়ার জন্য প্রতিরোধ করার উপায় এবং সাবান ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
    10. এই রোগের জটিলতা কী কী? এই রোগের গুরুতর জটিলতাগুলির মধ্যে রয়েছে: জমাট বাঁধ, অঙ্গ ব্যর্থত, মৃত্যু।
    11. এই রোগ থেকে কি ভাবে সুরক্ষিত থাকা যায়?
      • এই রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য মশা কামড় থেকে বাঁচার উপায় নেওয়া এবং চিকুনগুনিয়ার সহজ সচেতনতা প্রচার করা গুরুত্বপূর্ণ।
    12. এই রোগের পরীক্ষা কী? এই রোগের নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়।
    13. এই রোগের ভ্যাকসিন কী? এই রোগের জন্য এখনও কোন কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি।

    উপসংহার

    এই ব্লগ পোস্টে, চিকুনগুনিয়া রোগ সংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। এই রোগে থেকে দূরে থাকতে বা রোগীকে কিভাবে সারিয়ে তোলা যায়,সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    আমাদের লেখাটির যদি আপনার কাছে উপকারী মনে হয় তাহলে অবশ্যই একটি কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।কারন আপনাদের বহুমূল্য কমেন্ট আমাদেরকে আরো সামনের পথে এগিয়ে নিয়ে তে সাহায্য করবে এবং আরো ভালো কিছু শেখার জিনিস নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পারব l

    আর আমাদের লেখাটা যদি আপনার কাছে উপকারী মনে হয় তাহলে প্লিজ এটিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধু- বান্ধব দের সাথে সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার করবেন।

    এছাড়া আপনি যদি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ব্লগিং টিপস এবং ট্রিক্স পেতে চান? তাহলে ভিজিট করুন ধন্যবাদ।

    বিশেষত আপনারা কোন ধরনের আর্টিকেল চাইছেন যদি আমাদের কমেন্ট এ জানান তাহলে আমরা সেই বিষয়ে আর্টিকেল আনার চেষ্টা করব l

    নতুন নতুন খবরের আপডেট পেতে ক্লিক করুন

    ভারতবর্ষের যে কোন প্রান্তের পিনকোড সার্চ করার জন্য ক্লিক করুন